আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতিতে একটা বড় সমস্যা হল, কোনো Effective ড্রাগ এর নাম শুনলেই এর Prophylactic ইউস করা। এর অর্থ হল, ঐ ড্রাগটি খেলে আমি রোগ প্রতিরোধ করতে পারবো অথবা আমার রোগটি হবে না,এমন চিন্তা পোষণ করা।
প্রথমে যখন Doxycycline এবং Ivermectin এ সাফল্য পাওয়া গেলো দেখে কিছু ডাক্তার বিবৃতি দিলেন, তখন হঠাৎই ফার্মেসি থেকে এই দুইটা ঔষধ উধাও হয়ে গেল। সবাই গণহারে এই ঔষধ সেবন করতে থাকলো। ভাবলো এইটা খেলে,আমি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবো না। ভাগ্য ভালো ছিল, ঐ ঔষধগুলো মোটামুটি নিরীহ টাইপের ছিল। অর্থাৎ OTC(Over the counter) ইউস করলেও তেমন সাইড এফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যদিও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া, কোনো ঔষধ সেবনকেই আমি উৎসাহিত করছি না।
কিন্তু এইসব নিয়ে আমি কখনোই লিখতাম না, যদি না বাংলাদেশের অর্ধ-শিক্ষিত সাংবাদিকগণ এইসব অপরিণামদর্শী শিরোনামে "Dexamethasone" নিয়ে নিউজ না করতো। আগে এই টাইপের নিউজের পরিণাম কি হয়েছে,তা আমরা সবাই দেখেছি৷ সাংবাদিকরাও দেখেছে। তাই তাদের উচিত ছিল, BBC,CNN এর শিরোনাম পুরাই অনুবাদ না কইরা, নিজ দেশের পাঠকের উপযোগী শিরোনাম/নিউজ করা। ইউরোপ-আমেরিকার লোকজন বা*-পাকনামি কইরা নিজেই ফার্মেসি থেইকা ঔষধ কিইন্না খায় না। আমাদের দেশের মানুষ খায়৷ তাই আপনাদের আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত। আরো বিপত্তি বাঁধছে, যখন এই ভয়ানক ঔষধের সাইড এফেক্টগুলার কথাও আপনারা উল্লেখ করে মানুষকে সতর্ক করেন নাই।
এইবার আসি মূলকথায়। আমরা সবাই জানি,করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করে আমাদের ফুসফুসকে। এতে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এখন প্রশ্ন হল, শ্বাস-কষ্ট কেন হয়?
যাদের ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে প্রদাহ/Inflammation হয়, তাদের বায়ুথলী/অ্যালভিওলাস পানি দিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। এই ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে তখন অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর আদানপ্রদান কঠিন হয়ে পড়ে। এবং ফলস্বরূপ শ্বাস-কষ্ট দেখা দেয়।
এখন এই ধরনের শ্বাস কষ্টে প্রচলিত Bronchodilator এর Role-ও অত্যন্ত কম। কারণ Bronchodilator আমাদের Airway এর চারপাশে যে পেশি থাকে(ব্রঙ্কিওল/ব্রঙ্কাস এর পেশি) -কে রিলাক্স করে। ফলে দ্রুত আমাদের Airway খুলে যায়, এবং বেশি পরিমাণ বায়ু আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে৷ এটি ফুসফুস থেকে Mucus ক্লিয়ার করতেও সাহায্য করে। এটি সাময়িক কিছুক্ষণের আরাম দিবে,কারণ অ্যালভিওলাসে এর কোনো ভূমিকা নেই। তাই Severe patient-কে বাঁচাতে হলে আমাদের অবশ্যই পেশেন্ট এর Inflammation কমাতে হবে। এখন Inflammation কমাতে হলে আমাদের শরণাপন্ন হতে হবে Steroid-এর। আর Dexamethasone হল তেমন-ই এক ধরনের Steroid. আগেও Severe নিউমোনিয়া রোগীদের চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার হয়েছে। তার-ই ধারাবাহিকতায় এখনো হচ্ছে। আমাদের দেশেও আপনাদের এইসব নিউজের আগেও চিকিৎসকরা করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করেছেন।
কিন্তু স্টেরয়েড ব্যবহার কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা যাবে না। স্টেরয়েড কিন্তু একটি immunosuppressive drug. অর্থাৎ এটি আপনার ইমিউনিটিকে দমিয়ে রাখবে৷ তাই সুস্থ মানুষ হইয়া যদি আপনি এই ঔষধ খান,তা হলে আপনার আক্রান্তের সম্ভাবনা আরো বাইড়া যাবে। আর যেসকল করোনা রোগীর severe symptom নাই, তারা এই ঔষধ খাইলে অবস্থার উল্টা অবনতি হইতে পারে। আর severe symptom যাদের আছে, তারা হসপিটালে চিকিৎসা নিন। চিকিৎসক উচিত মনে করলে,অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট ডোসে Dexomethasone প্রেসক্রাইব করবেন।
অনেক সময়ই Dexamethasone এ এলার্জিক Reaction হয়।সারা শরীরে সাংঘাতিক র্যাশ হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ঔষধ গ্রহণে সাবধান।
হুদাই বাসায় Dexamethasone কিনে স্টক করবেন না। Dexamethasone যা করে, অন্য স্টেরয়েডের কাজ ও প্রায় সেইম। তাই প্যারা নিয়েন না। Dexamethasone মার্কেট আউট হইলে আপনারে অন্য গ্লুকোকর্টিকয়েড যেমনঃ Prednisolone/Cortisone/Betamethasone দেওয়া হবে। তাই মার্কেট আউট হয়ে যাবে,এই চিন্তায় Dexamethasone কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন না। আর এইটা নিয়ে লাফালাফি, মাতামাতি বন্ধ করেন। আমি আরো ২ মাস আগে থেইকাই কল্পনা করতাসিলাম,আমার করোনা হইলে, আমি আমার চিকিৎসককে অনুরোধ করমু আমারে স্টেরয়েড দেওয়ার জন্য।Severe নিউমোনিয়ায় বরাবর-ই স্টেরয়েড এর Effectiveness ভালো এবং Life-saving ভূমিকা পালন করে। যদিও লাইফ শুধুমাত্র আল্লাহ-তা'আলাই Save করেন।
ইতি,
মারসাদ( ঔষধ নিয়ে অত্যন্ত কৌতুহলী)মহিউদ্দিন।
Comments
Post a Comment