নেত্রী,
২৪ এ এসে আপনার জেনারেল সেক্রেটারি ঘোষণা দিলেন, এইবারও সন্ত্রাসী টোকাই লীগ ছাত্র আন্দোলন দমানোর জন্য যথেষ্ট।
ছবিঃ বিবিসি বাংলা
এখনো সময় আছে নেত্রী, এই প্রহসন বন্ধ করুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করুন, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিযান, গুম, গ্রেফতার বন্ধ করুন। এখনো সময় আছে নিজের ন্যাকা কান্না বন্ধ করে, জাতির কাছে ক্ষমা চান। সারাদিন শুধু বিএনপি-জামায়াত জপ না করে, এইসব হত্যাকান্ডের বিচার করুন। হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ও টোকাই লীগদের বিচারের আওতায় আনুন। এট লিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন। আর দেশের সম্পদের জন্য মিথ্যা কান্না কাঁদবেন না, আপনার সন্ত্রাসীদের জন্য মিথ্যা কান্না কাঁদবেন না। ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম হয়ে যায় যে, আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য না কেঁদে, না দুঃখ পেয়ে, কান্না করছেন আপনার ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়ির জন্য। শহীদদের পরিবারের সাথে দেখা করেন, সহমর্মিতা জানান।পারলে ঐ কান্নাটাই শহীদদের পরিবারের সাথে দেখা করে কাঁদেন। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য হলেও এইসব করেন। এখন যেভাবে ধুলো দিতে চাচ্ছেন, আপনার বর্তমান অভিনয়, পদক্ষেপ, বক্তব্য কোনোটাই সাধারণ মানুষের মনের রাগ, ক্ষোভ কমাচ্ছে না। বড্ড "ফেইক" হয়ে যাচ্ছে যে। হাত না কেটে হাতে টমেটো সস লাগিয়ে, হাত কেটে গেছে বলার মতই ফেইক। স্টার জলসার সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের থার্ড ক্লাস অভিনয় ও স্ক্রিপ্টের মতই ফেইক।
আপনার মন্ত্রীদের বারণ করুন বলতে যে, আত্মরক্ষার জন্য,জানমালের রক্ষার জন্য, সহিংসতা ঠেকানোর জন্য গুলি করা হয়েছিলো। বায়ান্ন ও একাত্তরের শহীদদের মৃত্যুও জাস্টিফাইড হয়ে যায় ঐ এক বাক্য দিয়েই। ভাষা আন্দোলনকারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের এত বড় অপমান করে এবং একই সাথে তাদের মৃত্যুর মহাত্মকে ইনভ্যালিড করে, সেই একই মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আওড়ানো বড্ড বেমানান লাগে নেত্রী, বড্ড হিপোক্রেসি হয়ে যায়।
আপনার পালিত সাবেক বিচারক শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক টকশোতে এসে বলেন, ছাত্ররা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে নাই প্রথম থেকেই।
সেই একই টকশোতেই তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কিভাবে করা হয়, এর কোনো সদুত্তর উনি দিতে পারেন নাই। ছাত্রদের এই আন্দোলন যদি নিয়মতান্ত্রিক না হয়, তাহলে আপনার বাবার নেতৃত্ব দেওয়া একটি আন্দোলন ও কি নিয়মতান্ত্রিক ছিল? যেভাবে জাস্টিস চৌধুরি উনার গাড়ি পার হওয়ার সময় সালাম না দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন, একইভাবে উনার বিরুদ্ধেও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলা করা হোক। প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার মামলা ও করা হোক। যতদূর মনে পরে, আপনিও তো রাস্তা আটকে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেছিলেন, আপনার করা বিগত আন্দোলনগুলোও তাহলে উনার ভাষ্যমতে অনিয়মতান্ত্রিক হয়ে যায়। আপনি তো অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করে এই পর্যায়ে এসেছেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলন করেছেন, কতবার জেলে গিয়েছেন, গৃহবন্দী হয়েছেন, প্রাণহানী হামলা হয়েছে আপনার উপর, তবুও আপনি গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করে গিয়েছেন। সেই আপনাকেই যখন সাধারণ ছাত্রজনতা "স্বৈরাচার" আখ্যা দিচ্ছে, আপনার জন্য তার মত লজ্জা আর কি হতে পারে? এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, আপনার শাসনামলে আপনাকে "স্বৈরাচার" বলা হচ্ছে। সেই ১৯৮১ থেকে ২০০৮ এর শেখ হাসিনা আর বর্তমান শেখ হাসিনা কি আসলেই একই মানুষ? কি এমন শক্তি যা আপনাকে বাধ্য করছে এমন নৃশংস পিশাচরূপ ধারণের জন্য, নাকি শুধু নিজের মুখোশ উন্মোচন করেছেন?
আপনি, আপনার মাননীয় মন্ত্রীরা ও আপনার ঘাতক-দালালগোষ্ঠী ঢালাও করে এখন বলে বেড়াচ্ছেন, প্রথম থেকেই আপনি ও আপনার সরকার এই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন।
আসলেই কি পক্ষে ছিলেন? আপনার বা আপনার একজন মন্ত্রী বা একজন ঘাতক-দালাল এর বক্তব্য-ও কি ছাত্রদের আন্দোলনের পক্ষে ছিল চাপে পড়ার আগে? আমি বুঝি একজন স্বৈরাচার হিসেবে চাপে পড়ে কোনো দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এইটা বুঝতে দেওয়া একটু সমস্যার বটে। তবুও এইসব ফালতু বকা বন্ধ করেন, আপনার অনুগত ঘাতক-দালালদের ও বন্ধ করতে বলেন, নিজের গদি বাঁচানোর জন্য হলেও ।
এই যে এত কনফিডেন্টলি কথা বলছেন, বারবার বলছেন নৌকা ডুববে না, এর পিছনের মেকানিজমটাও আমি বুঝি। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই যে ব্যাকবোনলেস করে দিয়েছেন। প্রত্যেক জায়গায় চাটুকার ও আপনার ঘাতক-দালাল। ভালো করেই জানেন, সাধারণ মানুষ যাই চাক, এই সিস্টেমটাই কখনো আপনার পতন হতে দিবে না। সকল আমলা, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী, যখন যা ইচ্ছা করতে চাচ্ছে, করতে পারছে, দেদারসে দু্র্নীতি করতে পারতেসে, সম্পদ পাচার করতে পারতেসে, জানে যে এর বিচার ও হবে না, আপনি ভাবছেন এরা কখনো আপনার পতন হতে দিবে না, তাই না? তাহলে আমিও খুব বিশ্বাসের সাথে বলছি নেত্রী, এরা কখনো গদি আজীবন ধরে রাখবে না আপনার জন্য। সাধারণ মানুষের রোষানল এতই ভয়ংকর যে, এইযে এত অহংকার করে বলছেন, আপনি পালান না, ঐটাই সত্য করে ছাড়বে, কোনো আমলা, বিচারক,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী, ঘাতক-দালাল সেদিন গদি রক্ষা করতে পারবে না।
মনে রাখবেন, পরেরবার এই আর্মি, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এর নির্বিচারে গুলি, হত্যা, গুম, গ্রেফতার,কারফিউ দিয়েও আমাদের দমাতে পারবেন না। আসছে ফাল্গুন আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো নেত্রী।
ইতি,
Comments
Post a Comment